//পবিত্র শবেমেরাজ আজ-

পবিত্র শবেমেরাজ আজ-



আজ পবিত্র শবেমেরাজ।আজকের এই দিনে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) হজরত জিবরাইল (আ.) ও হজরত মিকাইল (আ.) এর সঙ্গে বিশেষ বাহনের মাধ্যমে  পবিত্র কাবা থেকে সশরীরে জাগ্রত অবস্থায় আল্লাহর সান্নিধ্যে গ্রহণ করেন।

এই দিনে মহান নবী নবীদেরও নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রথম পবিত্র কাবা থেকে মসজিদে আকসায় পৌছান। তারপরে প্রথম আসমানে এবং
সপ্তম আসমান এবং সিদরাতুল মুনতাহায় অবস্থান করেন এবং রফরফ বাহনে মহাননবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) একাকী আল্লাহর আরশে প্রবেশ করেন।

বিভিন্ন বর্ণনা মতে, বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নবুয়াত লাভের
একাদশ বর্ষে ২৬ রজব দিবাগত রাতে চান্দ্র মাস বিবেচনায় ২৭ রজব মেরাজ সংঘটিত হয়েছিল। আরবি ভাষায় মেরাজ অর্থ হচ্ছে সিঁড়ি। আর ফারসি ভাষায় এর অর্থ ঊর্ধ্ব জগতে আরোহণ। পবিত্র কুরআনে আরবের মক্কা নগরী থেকে ফিলিস্তিনের বায়তুল মুকাদ্দাস (মসজিদে আকসা) পর্যন্ত ভ্রমণকে পবিত্র ‘ইসরা’ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। হাদিসে বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত উপনীত হওয়া ও আরশে আজিমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের মহিমান্বিত ঘটনাকে মেরাজ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে বলেন, ”পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি যিনি তার বান্দাকে রাতের বেলা মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত ভ্রমণ করালেন,যাতে তিনি তার নিদর্শন গুলো দেখাতে পারেন।নিশ্চই তিনি সর্ব শ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা”।-(সূরা বনি ইসরাইল,আয়াত নং ১)

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর মেরাজ গমন সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলপন, “উধ্ব জগতে তিনি তারপর তিনি তাঁর কাছাকাছি হলপন, খুব সন্নিকটে।তাদের মধ্যে দুই ধনুক পরিমাণ এর থেকেও কম পরিমাণ ব্যবধান ছিল।তখন আল্লাহরব্বুল আলামীন তাঁর প্রতি যা প্রত্যাদেশ করার করলেন।

হযরত মুহাম্মদ (সা.) যা দেখেছেন তা বিশ্বাস করতে অস্বীকার করেননি। তিনি যা দেখেছেন, তোমরা কি তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে তর্ক করবে? নিশ্চয়ই তিনি তাঁকে আরেকবার দেখেছিলেন। প্রান্তবর্তী সিদরা গাছের কাছে। যার কাছে জান্নাতুল মাওয়া অবস্থিত। যখন গাছটি আচ্ছাদিত ছিল যা দিয়ে তা আচ্ছাদিত হওয়ার ছিল। তাঁর দৃষ্টিবিভ্রম হয়নি, দৃষ্টি লক্ষ্যবিচ্যুত হয়নি। তিনি তাঁর রবের মহান নিদর্শনাবলি দেখেছেন। (সূরা আন নাজম)

একই সময়ে মেরাজে মহানবী (সা.) সৃষ্টিজগতের সব কিছুর রহস্য অবলোকন করেন। মেরাজ থেকে আল্লাহর রাসূল উম্মতে মোহাম্মদির জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে ফিরে আসেন।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে পবিত্র এ রাতটি পালন করে থাকেন। কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, নফল নামাজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকা ও বাড়িতে মিলাদ এবং গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করে থাকেন।

পবিত্র শবেমেরাজ উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের উল্লেখযোগ্য প্রতিটি মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ‘লাইলাতুল মেরাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আলোচনা সভা ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

এতে সভাপতিত্ব করবেন সংস্থার মহাপরিচালক ড. মুশফিকুর রহমান। আলোচনা করবেন জাতীয় মসজিদের সাবেক পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা রফিক আহমাদ ও জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস ড. মাওলানা মুশতাক আহমদ।



ডেইলিবিডিটাইম ডট কমের সর্বশেষ আপডেট পেতে চোখ রাখুন ডেইলিবিডি টাইমে ডট কম ওয়েবসাইটে।