//ভোটার আছে, দিবসও আছে, সুষ্ঠু ভোট নেই

ভোটার আছে, দিবসও আছে, সুষ্ঠু ভোট নেই

আজ দেশে ৩য় বারের মত ভোটাধিকার দিবস পালিত হচ্ছে। ভোটের গোপনীয়তাও রক্ষা হচ্ছে না। ভোটের গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যর্থতা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়া সত্তেও  কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ইসি নুরুল হুদা।

দেশে ভোটারদের নিশ্চয়তা নাই সঠিক প্রাথিকে ভোট দেয়ার।স্বাধীন ভাবে ভোট দেয়ার অধিকার আদায়ে কোনোরকম নিশ্চয়তা দিতে পারছে না নির্বাচন কমিশন। সাম্প্রতিক সময়ে পাঁচ দফায় পৌর নির্বাচনের পরিবেশ ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এমন মন্তব্য বিশ্লেষকদের।

দেশের ভোট ব্যবস্থা যখন প্রশ্ন জাগছে জনসাধারনের মুখে ঠিক তখন আজ ২ মার্চ জাতীয় ভোটার দিবস পালন করছে নির্বাচন কমিশন।  সংশ্লিষ্টদের মতে বর্তমানে বাংলাদেশের ভোট ব্যবস্থা নিয়ে সর্বক্ষেত্রে প্রস্নবিদ্ধ। এমতাবস্থায় এর সু প্রতিকার করার দায়িত্ব সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের। ভোটের অধিকার নিশ্চিত না করে ভোটার দিবস পালন করাকে দৃষ্টিকটু বলছেন বিশ্লেষকেরা।

এবারের ভোটার দিবসের স্লোগান, ‘ বয়স যদি হয় আঠার , ভোটার হতে দেরি নয়’।

প্রথমবার ২০১৯ সালের স্লোগান ছিল ‘ভোটার হব, ভোট দেব’।

২০২০ সালের স্লোগান ছিল, ‘ভোটার হয়ে ভোট দেব, দেশ গড়ায় অংশ নেব’।

ভোটার হতে এবং ভোটাধিকারে উসসাহিত করাই এই দিবসের প্রধান উদ্দেশ্য।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ এনে দেশের ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিক সম্প্রতি রাষ্ট্রপতিকে দুই দফা চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে অনেক অস্বাভাবিকতা ও অসংগতি দেখা গেছে। ২১৩ কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়েছে, যা কখনোই সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন চিঠিতে। ৫৯০ ভোটকেন্দ্রে শতভাগ বৈধ ভোট একটিমাত্র প্রতীকেই পড়েছে। সুধু তাই নয় রিটার্নিং কর্মকর্তার সই করা প্রাথমিক ফলাফলের সঙ্গে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলেও অমিল পাওয়া গেছে, তাও অনেক বড় ব্যবধানের। (ইভিএম) ও পেপার ব্যালটে ভোটের হারে ৩০ শতাংশ ব্যবধান ছিল; যা ফলাফলকে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বাধ্য করছে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ভোটার দিবস পালনের উদ্যোগটি ভালো। যেহেতু এখন এর সঙ্গে নাগরিক পরিচয়ের বিষয় জড়িত, তাই ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহ আছে। কিন্তু বহুদিন ধরে দেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ, ভোটের পরিবেশ নিরপেক্ষ নেই। নির্দিষ্ট করে বর্তমান কমিশন নয়, ২০১৪ সাল থেকে দেখলে দেখা যাবে, নির্বাচনের যথাযথ পরিবেশ তৈরি করা হয়নই।

নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, পাঁচ ধাপ মিলিয়ে মেয়র পদে ভোট পড়ার হার ৬৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অনেক জায়গায় গোপন বুথে অবস্থান নিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা। তাঁরাই নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন ভোটারের পক্ষে। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক ভোটার বুথের ভেতরের এই অবৈধ অবস্থানকারীদের ‘ভোটের বুথে নৌকার ভূত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।যা বাংলাদেশের ভোটার ব্যবস্থাকে সারা বিশ্বে  হাস্যকর হিসেবে ফুটিয়ে তুলছে।

এবারের পৌর নির্বাচনের অবস্থা দেখে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার সংবাদ মাধ্যমে বলেন ‘পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল দেখে আমার ধারণা হচ্ছে, নির্বাচন নির্বাসনে যেতে চায়।এসব স্পষ্ট বিষয় দেখে জনসাধারনের মনে পর্যন্ত প্রশ্ন জাগে, নির্বাচন কি এখন পূর্বে নির্ধারিত?’

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, এখন মুলত ভোটাধিকার নেই। নানাভাবে মানুষকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটার দিবস পালন লোকদেখানো আয়োজন ছাড়া অন্ন কিছুই নয়। ভোটার দিবস তখনই তাৎপর্যপূর্ণ হবে, যখন প্রকৃত অর্থে সবার ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।