//হার্ট অ্যাটাকের ১ মাস আগেই দেহে এই ৬টি লক্ষণ দেখা দেয়ঃ

হার্ট অ্যাটাকের ১ মাস আগেই দেহে এই ৬টি লক্ষণ দেখা দেয়ঃ


বিশেষজ্ঞদের মতে মানুষের হার্ট অ্যাটাকের অন্তত এক মাস আগে থেকেই ব্যক্তির শরীরে কিছু বিশেষ লক্ষণ প্রকাশ পায়।এই লক্ষণগুলোই মূলত কিছুদিনের মধ্যে ব্যক্তির হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ প্রকাশ করে।এরকম ছয়টি লক্ষণ দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা অত্যন্ত জরুরী।আমরা আজ জানবো লক্ষণ ছয়টি কি কি এবং এর প্রতিকারে আমাদের কি করণীয় __

১)অস্বাভাবিক শারীরিক দুর্বলতা
২)ঝিমুনি
৩)ঠাণ্ডা ঘাম:
৪)বুক ব্যথা
৫)শ্বাসকষ্ট
৬)শরীর ব্যাথা।

মূলত এই ছয়টি লক্ষণ দ্বারাই ব্যক্তির খুব তারাতারি হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা প্রকাশ পায়।

অস্বাভাবিক শারীরিক দুর্বলতাঃ শরীরে রক্তপ্রবাহ তুলনামূলক কমে গেলে বা রক্ত চলাচলে বাধাগ্রস্থ হলে অস্বাভাবিক শারীরিক দুর্বল লাগে।রক্ত চলাচল করার শিরা-উপশিরায় অতিরিক্ত চর্বির জমার কারণে রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি হয়, আর রক্ত চলাচলে বাধাপ্রাপ্ত হলে মাংসপেশি দূর্বল হয়ে পরলে এটি হার্ট অ্যাটাকের প্রধান একটি লক্ষণ।

ঝিমুনি ঝিমুনি ভাবঃ দেহের রক্ত প্রবাহের মাত্রা কমে গেলে শরীরে ঝিমুনি ঝিমুনি ভাব ভাব দেখা দেয়।এবং মস্তিষ্কের রক্ত প্রবাহ কমে গেলে ঝিমুনির পরিমাণ বাড়ে এবং ঝিমুনি ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে।

ঠান্ডা ঠান্ডা ঘাম অনুভব: রক্তপ্রবাহ কমে গেলে দেহে ঘাম ঝরলে স্যাঁতসেঁতে ও ঠাণ্ডা ভাব অনুভূত হবে।যখন হার্ট ব্লক হয় তখন রক্ত সঞ্চালনে হৃদপিণ্ডে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণেই মূলত অনেক বেশি কাজ করতে হয়।  আর হৃদপিণ্ডের এই অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে ঘামের সৃষ্টি হয় এবং এই ঘাম সাধারণত অনেক ঠাণ্ডা হয়ে থাকে।এরকম সমস্যার সম্মুখীন হলে যত দ্রুত সম্ভব বক্ষ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া একান্ত জরুরি।

বুক ব্যাথা ব্যাথা: বুক, বাহু, পিঠ এবং কাঁধে ব্যথা অনুভূত হলে দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। বুকে ব্যথা এবং সংকোচন হৃদপিণ্ডের অসুস্থতার একটি বড় লক্ষণ।শুধু বুকে ব্যথাই নয়, শরীরের অন্যান্য বিশেষ কিছু অঙ্গে ব্যথা অনুভব হওয়াও হতে পারে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। পেটের উপরের অংশ, কাঁধ, পিঠ, গলা, দাঁত ও চোয়াল এবং বাম বাহুতে হুট করে অতিরিক্ত ব্যথা হওয়া বা চাপ অনুভব অথবা আড়ষ্টতা অনুভব করাও হতে পারে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ

অনেক সময় হার্ট অ্যাটাকের সময় বুকে ব্যথা অনুভূত হয় না। এ ক্ষেত্রে বুকে অস্বস্তিকর অনুভূতি এবং বুকে চাপ ধরা ভারি ভাব অনুভব করার বিষয়টিতে নজর দিতে হবে। এই সময় শ্বাস নিতেও সমস্যা হয়ে থাকে।এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে সবথেকে জরুরি অতীব শিগ্রহি ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া এবং ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলা।

শ্বাসকষ্টঃ ফুসফুসে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন এবং রক্ত সরবরাহ না হলে এই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। হার্টের সমস্যা থাকলে ফুসফুসে রক্ত চলাচল কমে যায়। আর শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস ছোট হয়ে আসার মতো সমস্যা দেখা যায়।

উপরোল্লিখিত সব বিষয়গুলি খুবখুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর কোনো একটায় একদমই অবহেলা করা ঠিক নয়।এর কোনো একটি লক্ষণ দেখা দিলে কোনো ধরনের অবহেলা না করে, দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং দিকনির্দেশনা মেনে চলুন।

বেঁচে থাকতে হলে সুস্থ শরীরে বেঁচে হবে। আর তার জন্য হার্ট অ্যাটাক নিয়ে সচেতনতার কোনো কমতি থাকার কোনো কারণ নাই। নিয়মিত শরীরিক পরিশ্রম করা উচিত। পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা উচিত।মুসলিম ধর্মালম্বী গণ নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মাধ্যমে সঠিক ব্যায়াম করতে পারেন।

ডেইলিবিডিটাইমের নিয়মিত আপডেট পেতে চোখ রাখুন dailybdtime.com এ.